Home / শায়খ আহমাদুল্লাহ / বেগম রোকেয়া সম্পর্কে যা বললেন শায়খ আহমাদুল্লাহ

বেগম রোকেয়া সম্পর্কে যা বললেন শায়খ আহমাদুল্লাহ

বেগম রোকেয়া সম্পর্কে যা বললেন শায়খ আহমাদুল্লাহ

অডিওতে শায়খ আহমাদুল্লাহ যা বলেছেন, তার হুবহু লিখিত রূপ নিচে দেওয়া হলো:

প্রশ্নকারী: একজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক বেগম রোকেয়াকে কাফের-মুরতাদ বলেছেন। বেগম রোকেয়া সম্পর্কে আপনার মন্তব্য জানতে চাই।

শায়খ আহমাদুল্লাহ: প্রিয় দর্শক, বেগম রোকেয়া সম্পর্কে অনেক বেশি জানবার সুযোগ আমার হয়নি। তবে আমরা এ বিষয়ে জানাশোনার কাজটি শুরু করে দিয়েছি। হয়তো অচিরেই আপনাদেরকে আমরা এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাবার সুযোগ লাভ করব।

তবে তার একটা বই থেকে আমি পাঠ করছি, তিনি তার এক বইয়ে লিখেছেন: “আমাদিগকে অন্ধকারে রাখিবার জন্য পুরুষগণ ওই ধর্মগ্রন্থগুলিকে ঈশ্বরের আদেশপত্র বলিয়া প্রকাশ করিয়াছেন।” পরের প্যারায় তিনি আবার লিখেছেন: “তবেই দেখিতেছেন, এই ধর্মগ্রন্থগুলি পুরুষরচিত বিধি-ব্যবস্থা ভিন্ন আর কিছুই নহে।” আরও অনেক কথা তিনি এখানে লিখেছেন, আমি সেগুলো আর কোট করতে যাচ্ছি না।

মূলত বেগম রোকেয়ার যে সমস্ত চিন্তাধারা, যে সমস্ত কথা এবং উক্তি তার বিভিন্ন বই-পুস্তকে আছে, সেগুলোর অনেকগুলোই কোরআন-হাদিসের সাথে পরিপূর্ণভাবে সাংঘর্ষিক। যে দুটি জায়গা থেকে আমি পাঠ করে শুনিয়েছি, সেটি শুনে আমার মনে হয় যে একজন কোরআন এবং হাদিস সম্পর্কে সাধারণ ধারণা থাকা মানুষমাত্রই বলতে পারেন যে, এটা আসলে কোনো মুসলমানের মন্তব্য হতে পারে না। মুসলমান মানে তো আত্মসমর্পণকারী, আল্লাহতে পরিপূর্ণ বিশ্বাস স্থাপনকারী। আসমানি কিতাবগুলো আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রেরিত সে মর্মে পরিপূর্ণ বিশ্বাস স্থাপনকারী।

তিনি তার এই দ্বিতীয় প্যারার একটা পর্যায়ে বলেছেন যে: “মুনিদের বিধানে যে কথা শুনিতে পান, কোনো স্ত্রী মুনির বিধানে হয়তো তাহার বিপরীত নিয়ম দেখিতে পাইতেন। কিন্তু স্ত্রীলোকদের সেরূপ যোগ্যতা কই যে মুনি ঋষি হইতে পারিতেন। যাহাহোক, ধর্মগ্রন্থসমূহ ঈশ্বর প্রেরিত কি না, তাহা কেহই নিশ্চিত বলিতে পারেন না।” এই যে উক্তি, এই উক্তি আসলে আপনার ঈমানের সাথে কখনো সঙ্গতিপূর্ণ হতে পারে না।

তো তার বিষয়ে আরও বিস্তারিত মন্তব্য, বিশেষ করে কাফের-মুরতাদ হওয়ার মতো মন্তব্য করার জন্য আরও পড়াশোনা করার প্রয়োজন এবং এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে যারা বিশেষজ্ঞ আছেন, ফতোয়া বিভাগগুলো আছে, তারা গবেষণা করে সুস্পষ্ট কোনো ফতোয়া প্রকাশ করবেন বলে আমি প্রত্যাশা করি দেশের বিজ্ঞ ওলামায়ে কেরামের কাছে।

কিন্তু আমার আলাপের অন্য একটা জায়গা আছে। একজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক তার একটি মতামত ব্যক্ত করেছেন। একটি মতামত ব্যক্ত করার পর তার ব্যাপারে যে পরিমাণ নেগেটিভ মন্তব্য এবং তাকে যে পরিমাণ কোণঠাসা করা হচ্ছে! আমরা প্রায় সময় দেখি যে, এর বিপরীতে, অর্থাৎ কোনো ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে এরকম নেগেটিভ কোনো মন্তব্য যদি কেউ করেন, তাহলে সেক্ষেত্রে সেখানে আমাদের এই তথাকথিত সুশীলদেরকে দেখা যায় তারা মতপ্রকাশের স্বাধীনতা হিসেবে সেটাকে দেখবার চেষ্টা করেন। তাহলে একজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক তার একটি মত ব্যক্ত করেছেন, আপনি সেটার সাথে ডিবেট করেন বা সেটাকে অস্বীকার করেন, কিন্তু এর জন্য তার আপনি একহাত নিচ্ছেন, তার চৌদ্দগোষ্ঠী উদ্ধার করছেন—এর কারণটা কী?

একটা সমাজে যদি কোনো আলেম সম্পর্কে বাজে মন্তব্য করলে সেটা কোনো দূষণীয় বিষয় না হয়, তাহলে এখানে একজন নারী, যিনি সমাজ নিয়ে হয়তো ভাবতেন, তার ভাবনাগুলোর কতটা সঠিক, কতটা বেঠিক, সেটার ওপরে কেউ একজন মূল্যায়ন করলেন বা তার মূল্যায়ন নিজস্ব মতামত তিনি প্রকাশ করলেন, কেন তার চৌদ্দগোষ্ঠী উদ্ধার করতে নামতে হবে?

মূলত আমাদের শিক্ষাঙ্গনগুলো, বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো, এগুলোতে ইসলামোফোবিয়া বা ইসলামবিদ্বেষ এইভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে যে, ধর্মপ্রাণ মানুষদের বুকের ওপরে বসে, তাদের টাকায় চলে এই প্রতিষ্ঠানগুলো ধর্মহীনতার চর্চা করছে এবং ধর্মবিরোধী পরিবেশ সেখানে প্রতিষ্ঠা করছে। যেটা খুবই দুর্ভাগ্যজনক বাস্তবতা। এবং এই দুর্ভাগ্যজনক অধ্যায়ের বিরুদ্ধে আমাদের কাজ করতে হবে এবং আমাদেরকে এখানে যথেষ্ট অবদান রাখবার সুযোগ আছে।

এবং এই নতুন বাংলাদেশে অন্তত ইসলামোফোবিয়া কোনো অবস্থাতেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে থাকতে পারে না। আপনি বাংলাদেশের ভূখণ্ডে থেকে বাংলাদেশের মানুষের চিন্তা-চেতনা, আদর্শ পরিপন্থী কাজ করবেন; কেউ ধর্ম পালন করতে চাইলে, কেউ ধার্মিক হতে চাইলে তাকে কোণঠাসা করবেন; তার ব্যাপারে আপনি মতপ্রকাশের কোনো স্বাধীনতা রাখবেন না—এই অবিচার কখনো মেনে নেয়া যায় না।

বিধায় এই শিক্ষক, যার ব্যাপারে এখন আপনার অনেক বেশি নেগেটিভ মন্তব্য একশ্রেণরি মানুষ করছেন আমরা দেখছি, আমাদের উচিত তার পাশে দাঁড়ানো এবং তার ব্যাপারে কোনো প্রকার অবিচার হলে সেটার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানো এবং তার সহযোগিতা করা, এই ব্যক্তির সহযোগিতা করা এবং তার এই মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পক্ষে কথা বলা এটা আমাদের কর্তব্যের অংশ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *